আপনার চাহিদা অনুযায়ী যুগান্তর পত্রিকার কন্টেন্টটিকে ইউনিক করে এবং ১৯৫০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলি ও বিশ্লেষণ যোগ করে 'বাংলাদেশ প্রতিদিন' স্টাইলে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন নিচে উপস্থাপন করা হলো:
ত্রয়োদশ নির্বাচনে নয়া সমীকরণ: ধানের শীষ হাতে রাশেদ খান, নেপথ্যে সাত দশকের রাজনৈতিক বিবর্তন
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন বইছে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া। এই নির্বাচনী ডামাডোলে রাজনীতির ময়দানে নতুন মেরুকরণ ও চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান। গত ২৬ ডিসেম্বর শুক্রবার রাতে গণঅধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগের পর রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দিয়েছেন তিনি। গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে ফুল দিয়ে তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির পতাকাতলে শামিল হন।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষের সারথী যোগদান অনুষ্ঠানেই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা করেন, ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) আসনে রাশেদ খান ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে মহাসচিব বলেন, "রাশেদ খান তরুণ ও উদীয়মান নেতা। তাকে বিজয়ী করতে আমাদের সবাইকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে।" প্রতিক্রিয়ায় রাশেদ খান বলেন, "আমি সবসময়ই শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিলাম। এলাকার মানুষের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই আমি ধানের শীষ বেছে নিয়েছি।"
নেপথ্যের কৌশল ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এই দলবদলকে 'নির্বাচনী কৌশল' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ফ্যাসিবাদ পতন পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে তারা বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এই সমঝোতায় পৌঁছেছেন। উল্লেখ্য যে, নুর নিজেও পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা) আসন থেকে বিএনপির সমর্থনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন।
১৯৫০ থেকে ২০২৫: ইতিহাসের বাঁক বদল রাশেদ খানের এই যোগদানের প্রেক্ষাপট বুঝতে হলে আমাদের ফিরে তাকাতে হবে বাংলাদেশের সাত দশকের রাজনৈতিক বিবর্তনের দিকে।
১৯৫০-এর দশক ও ১৯৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট: ১৯৫০ সাল থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে স্বায়ত্তশাসনের যে বীজ বপন হয়েছিল, তার প্রথম সফল বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে। মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দল মিলে গঠিত 'যুক্তফ্রন্ট' জয়লাভ করে, যা জোট রাজনীতির প্রাথমিক ভিত্তি ছিল।
১৯৭০ ও ১৯৭১-এর উত্তাল সময়: ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক বিজয় এবং পরবর্তীকালে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে স্থান পায়।
১৯৭৫ ও বহুদলীয় গণতন্ত্র: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক ঘটনার পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যায়। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেন।
১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান: দীর্ঘ নয় বছরের সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে ছাত্র-জনতার উত্তাল গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ সরকারের পতন ঘটে। ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনর্জন্ম হয় এবং বিএনপি ক্ষমতায় আসীন হয়।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও ২০২৫-এর বর্তমান প্রেক্ষাপট: দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার চূড়ান্ত অভ্যুত্থানে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদসহ ৪২টি দল রাজপথে সক্রিয় ছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের এই শেষ সময়ে এসে সেই রাজপথের মিত্রদের নির্বাচনী মাঠে একীভূত হওয়াকে বিশ্লেষকরা 'নতুন বাংলাদেশের' নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ হিসেবে দেখছেন।
বক্তাদের ভাষ্য ও আগামীর রাজনীতি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশেদ খানের বিএনপিতে যোগদান কেবল একজন নেতার দলবদল নয়, বরং এটি তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিকদের মূলধারার রাজনীতির সাথে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া। গত দেড় বছরে গণঅধিকার পরিষদ ও বিএনপির মধ্যকার সমন্বয় এবং বর্তমান সমঝোতা প্রমাণ করে যে, আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী শক্তি এক বিশাল জোটবদ্ধ শক্তিতে পরিণত হতে যাচ্ছে।
সূত্র: ১. যুগান্তর অনলাইন সংস্করণ, ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫। ২. বাংলা ট্রিবিউন ও সংবাদ সংস্থা বাসস-এর রাজনৈতিক আর্কাইভ। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস: উইকিপিডিয়া ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ই-বুক।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |